কিলিমাঞ্জারো নামা, 2025

তানজানিয়ার পথে নেমেই প্রথম বিপদ – ইমিগ্রেশন ঝামেলা! 😓 তানিজানিয়া ভিসা চেক করতেই ৩০ মিনিট, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ (কেন যাচ্ছি, কোথায় যাচ্ছি, কি হবে এসব করে) ইত্যাদি। এর পর ইমিগ্রেশন অফিসার যখন শুনলো কিলিমাঞ্জেরো সামিটে যাচ্ছি উনি সাথে সাথেই আমাকে শুভকামনা জানালো, একসাথে ছবি তুললো।

তারপর আদ্দিস আবাবা ট্রানজিটে ফ্লাইট ডিলে আটকে থাকা, এবং শেষ মুহূর্তে একদম একাই আমাকে নিয়ে কিলিমাঞ্জারো ফ্লাই করানো! এমন অভিজ্ঞতা জীবনে প্রথম! উড়োজাহাজের জানালা দিয়ে কিলিমাঞ্জেরো চূড়া দেখা যাচ্ছে, জীবনে প্রথম দেখছি এই অপূর্ব সুন্দর তুষারে ঢাকা শৃঙ্গ।

কিলিমাঞ্জারো একা করিনি, সাথে ছিল জার্মানি, স্পেন, মরক্কো, ক্যামেরুন, ইউএসএ, ইউকে, জাপান ও বাংলাদেশ—এই আটটি দেশের দারুণ গ্রুপ। সবার আন্তরিকতা ছিল অবিশ্বাস্য! আর আমার গাইড জন — যার সাথে পুরো যাত্রায় দারুণ বন্ধুত্ব হয়ে যায়!

মারাঙ্গু রুটের নিয়ম মেনে অ্যাক্লেমাটাইজেশন ডে থাকার কথা ছিল, কিন্তু অবিরাম বৃষ্টির কারণে পরিকল্পনা বদলে একদিন আগেই সামিট পুশ করতে হয়! ভয় ছিল, শরীর মানিয়ে নিতে পারবে তো? কিন্তু কষ্টের পরও সামিট করার জন্য মনোবল ধরে রেখেছিলাম!

সামিটের পথে যখন গিলিমানস পয়েন্টে পৌঁছাই, তখন গাইড মিঃ জন বলছিল ফিরে যেতে! 🥶 ঠাণ্ডা, ক্লান্তি আর অক্সিজেনের অভাব সত্যিই অনুভব করছিলাম, কিন্তু ফিরে যাওয়ার চিন্তা একদম মাথায় আনিনি! ধৈর্য আর ইচ্ছাশক্তির জোরে সামনে এগিয়ে গিয়েছি!

ঝকঝকে উহুরু পিকে দিনের আলোতে সামিট!

সাধারণত সবাই অন্ধকারে সামিট করে, কিন্তু ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল! ঝকঝকে দিনের আলোতে উহুরু পিকে পৌঁছে যাই। কিলিমাঞ্জারোর গ্লেসিয়ার, মেঘের সাগর, আর চারপাশের দৃশ্য—এমন মুহূর্ত কখনো ভুলবো না!

দেশের পতাকা, ফিলি-*স্তিনের পতাকা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের হাতে লিখে দেয়া উইশিং ফ্ল্যাগ তুলে ছবি নিয়ে কিছুক্ষন ঘুরে দেখছিলাম।
উহুরু পিক বোর্ডে ২ টা বাংলাদেশের স্টিকার স্মৃতি হিসাবে রেখে এসেছি।

সামিটের পরপরই শুরু হলো নতুন সংকট—খাওয়ার অনীহা, শরীর ক্লান্ত, কিন্তু কিছুই খেতে পারছি না! এরপর জানজিবারে পৌঁছে আরেক চ্যালেঞ্জ—৪ দিন প্রায় না খেয়েই সার্ভাইভাল মোডে থাকতে হয়েছে! পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিলাম, স্থানীয় খাবারের স্বাদ ভালো লাগছিলো না তাই শুধু ফলমূল খেয়ে চলছিল দিন।

এই কঠিন যাত্রার শেষে নিজেকে উপহার দিলাম স্বপ্নের স্কাইডাইভ! ১০,০০০ ফুট উঁচু থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ার সেই অনুভূতি, আকাশের বুক চিরে নামার সেই মুহূর্ত— জীবনের অন্যতম সেরা অ্যাডভেঞ্চার!

এই অভিযানের প্রতিটি ধাপে শিখেছি নতুন কিছু, অনুভব করেছি প্রকৃতির বিশালতা, মানুষের সহমর্মিতা আর নিজের ধৈর্যের শক্তি! যারা শুভকামনা জানিয়েছেন, পাশে ছিলেন — আপনাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা!

আগামীতে আরও বড় চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি! সামনে কি আছে, কে জানে? 😍

#lrkhokon #tourdesh #lrmountaineer #MountKilimanjaro #MaranguRoute #SummitSuccess #Adventure #Hiking #Expedition #Bangladesh #Zanzibar #Skydiving #DreamComeTrue