জাবালে সউর: নবীজির স্মৃতিবিজড়িত গুহা আর মক্কার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য

একে তো পাহাড় প্রেমী তারপর আবার পবিত্র নগরী।
জাবালে সউর প্রায় 2,460 ফিট, বিশালাকৃতির পাথরের সজ্জিত হাইকিং রুট। পাহাড়ে উঠার সময় আকাবাকা রাস্তার প্রতিটা মোড়েই বসার স্থান, নামাজের স্থান আর জায়নামাজ দিয়ে সুন্দর গালিচা বিছানো। এমন রাস্তা ধরে যতই উপরে উঠে যাচ্ছি ক্লান্তি কমে যায়, একটু পর পর এখানে সেখানে বিড়াল বসে আছে। উঠা এবং নামার সময় সবার মুখেই সালাম। চূড়ায় প্রচন্ডরকম বাতাস আর পুরো মক্কা শহর টা ৩৬০° ভিউ তে দেখা যায়। একপাশে আরাফাত ময়দান অন্য পাশে পবিত্র মক্কা। পাহাড়ে উঠার শুরু থেই দূর থেকে ক্লক টাওয়ার দৃশ্যমান হতে থাকে আস্তে আস্তে মিনার গুলো ও দেখা যায়।

আমরা মাগরিবের একটু আগেই পাহাড়ে উঠা শুরু করি, গেটের কাছেই ফ্রী তরমুজ খাওয়াচ্ছে বার্মার রোহিঙ্গা একভাই। কিছুটা উঠতেই পবিত্র মক্কা থেকে ভেসে আসছে মাগরিবের আযান। প্রতিটা মোড়েই পাথরের উপরে নামাজের সুন্দর ব্যবস্থা করা। নামাজের জন্য দাড়াতেই সৌদিয়ান একভাই জায়নামাজ দিলেন। সামনে মক্কা পাহাড়ের কোলে নামাজ আর শীতল বাতাস, ভাবতে পারেন?

সন্ধ্যার পরেই অনেকে চলে আসে এই পাহাড়ে ওঠার জন্য, ৩৬০° ভিউতে মক্কার শহর, আর আকাশের তারা আর চতুর্দিকে ছোট ছোট ঝলমল করতে থাকা ছোট শহর গুলো।

চূড়ায় উঠতে কয়েকটা পাথর এমন ভাবে ঝুলে আছে মনে হবে এখানে এমন ভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। চূড়ার কাছাকাছি যেতে ৩ টা পাথরের মধ্য দিয়ে আকাশে শনিগ্রহ উঁকি দিয়ে আছে, সুবহানআল্লাহ।

একদম চূড়ায় ৩/৪ টা বিশাল পাথর এর মধ্যে একটার নিচে গুহা, এ গুহার মধ্যেই নবী করিম (সাঃ) ও হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) মদিনা মোনাওয়ারায় হিজরত করার সময় ৩ দিন আত্মগোপন করেছিলেন।

অন্য পাশে একটু উচুতে আরেকটা পাথরে উঠে আরাফাত ময়দান সামনে রেখে কিছুক্ষন শুয়ে থাকলাম। আকাশে শতশত তাঁরা আর মাথার কাছে ঘুরে তাকালেই পবিত্র মক্কা।

একটা রাত এখানে থাকার খুব ইচ্ছা, ইনশাআল্লাহ্ কোন একদিন।