কাবা: ৭ হাজার কিলোমিটার দূরের এক ভালোবাসা

প্রথম দেখায় বাইতুল্লাহ,
ভোর সাড়ে ৪ টায় উত্তপ্ত মরুর দেশে পা রাখলাম, জীবনে এই প্রথম নিজ বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কিলোমিটার দূরে এসেছি। পাহাড়, নদী, সাগর, মহাসাগর পেরিয়ে শুধু একটাই উদ্দ্যেশ সেই পবিত্র ঘর বাইতুল্লাহ কে স্বচক্ষে দেখা। সাথী হিসাবে পেয়েছি আমার খুব কাছের বন্ধু শহিদুলকে। ছোট বেলা থেকেই মনের মধ্যে যেই আশা সঞ্চিত ছিল তা আজকে পূর্নতা পেতে যাচ্ছে। জেদ্দা থেকে তায়েফ যাওয়ার পথেই ক্লোক টাওয়ার দেখতে পাই, ভিতরে আনন্দের অস্থিরতা কাজ করছিল, আমি এখন পবিত্র কা‘বা র নিকটবর্তী।

তায়েফ থেকে যখন মক্কার পথে আসছি, দুটি চোখ এদিক সেদিক অপলক দৃষ্টি তে খুজে যাচ্ছে পবিত্র সেই ঘর। যত কাছে আসছি ততই ভিতরের আনন্দের অনুভূতি প্রজাপতির ডানায় উড়ে বেরাচ্ছে। ক্লোক টাওয়ারের পাশ দিয়ে আমাদের গাড়ি যাচ্ছে, মিনার গুলো দেখে বুঝতে দেরী হলো না এই সেই মাসজিদুল হারাম। সরাসরি হোটেলে চেকইন করেই রুম থেকে বেড়িয়ে পরলাম।

প্রচন্ড রোদের তীব্রতা মাথায় নিয়েই বায়তুল্লাহ র দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, মিনার গুলো দেখেই চোখ ঝলঝল হয়ে আসছে, নিশ্বাস ভারী হয়ে আসছে আর অপলক চোখে এগিয়ে যাচ্ছি সামনের দিকে। খুব সম্ভবত ৮৯তম গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করি, অত্যাধুনিক দৃষ্টিনন্দন হারাম প্লাজা, অনন্য স্থাপত্য নান্দনিক কারুকাজ দেখছি আর হাঁটছি। কিন্তু পিপাসার্ত দুটি চোখ খুঁজে ফিরছে পৃথিবীর প্রথম ঘর বাইতুল্লাহ। প্রতিটি কদমে নিঃশ্বাসের মাত্রা বেড়েই চলছে। ডানে-বামে তাকাই, হাজারো মানুষের সকলের দৃষ্টি, খেয়াল বাইতুল্লাহর দিকে। যে কোন মুহূর্তে স্বপ্নের কা‘বা নজরে আসবে এই ভাবনায় চোখ দুটি ভিজে ছলছল।

“আল্লাহু আকবার” ঐ যে স্বর্ণখচিত পবিত্র কুরআনের আয়াত সম্বলিত কালো গিলাফে মোড়ানো কা‘বা ঘর। Shohidul কে হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে দেখালাম।
আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।

এর পরের অনুভূতি প্রকাশের কোন মাধ্যম আমার জানা নাই।

কা‘বা ঘর প্রথম দেখাতেই দাঁড়িয়ে যেতে হয়, দোয়া বলতে হয়। এই সময়টা দোয়া কবুলের সময়। আলহামদুলিল্লাহ, আমার সৌভাগ্যবান দুটি চোখ ক্লান্তি ভুলে তাকিয়ে আছে পবিত্র কা‘বার দিকে।